‘বাবা আমি ভালো হয়ে গেছি না!’
‘বাবা আমি ভালো হয়ে গেছি না! আমার হাত অনেক হালকা হয়ে গেছে তাই না!’ এসব
কথা বাবা ইব্রাহীম হোসেনকে জিজ্ঞেস করছিলো অপারেশন হওয়া শিশু মুক্তামণি।
গতকাল মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন এসব কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। গত
১২ই আগস্ট অপারেশনের পর থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বার্ন ইউনিটের
নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। আইসিইউ’র ৫ নম্বর বিছানায়
রয়েছে মুক্তামণি।
আরো বেশ কয়েকদিন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে
জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ইব্রাহীম হোসেন জানান, অপারেশনের পর থেকে মুক্তামণিকে
খাওয়ানো নিষেধ ছিলো। তবে রাতে ডাক্তারদের কথা মতো তাকে স্যুপ খাওয়ানো হয়।
সে সুজি ও স্যুপ খেতে চেয়েছিল। এরপর গতকাল সকালে মুক্তামণিকে স্যুপ, সুজি,
দুধ, ডিম ও কমলা খাওয়ানো হয়েছে। এ সময় সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা
আমি ভালো হয়ে গেছি না! আমার হাত অনেক হালকা হয়ে গেছে তাই না!চ তখন বাবা
ইব্রাহীম তার কথায় সম্মতি দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ মা, তোমার হাতের সব ঘা কেটে
ফেলে দিয়েছে, তোমার হাত অনেক হালকা হয়ে গেছে।
তুমি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে
যাবে।’ এ সময় মুক্তামণিকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছিলো বলে জানান তার বাবা
ইব্রাহীম। মুক্তামণির মা আসমা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন,
‘আপনাদের সহযোগিতায় এবং ডাক্তারদের প্রচেষ্টায় আজ আমার মুক্তা অনেক ভালো
আছে। গত রাতে একটু জ্বালা পোড়া ছিল। গতকাল সকাল থেকে তার আর জ্বালা পোড়া
নাই। অনেক ভালো আছে মুক্তা।’ ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী
ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তামনি ভালো আছে।
সকালে তিনি নিজে আইসিইউতে
গিয়ে মুক্তামণিকে দেখে এসেছেন। তখন তিনি মুক্তামণিকে জিজ্ঞাস করেছিলেন,
তোমার কেমন লাগছে? সে বলেছে-আমার খুব খিদে পেয়েছে, আমি ভাত খাবো। তিনি আরো
জানান, মুক্তামণির অবস্থা ভালো হলেও সে এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাকে বিশেষভাবে
নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আগামী ১৭ই আগস্ট তার হাতের ড্রেসিং করা
হবে। তারপর বোঝা যাবে তার হাতের অবস্থা। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, তাকে
সুস্থ করা আরো দীর্ঘদিনের ব্যাপার কেননা দেরির কারণে তার শরীরের আরো
গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে।
এমনকি আক্রান্ত হাতটি ফেলে দেয়ার আশঙ্কা
ছিলো। মুক্তামণি পুরো সেরে উঠবে কিনা সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন বলে তিনি
মন্তব্য করেন। তার হাতের টিউমারটা সরানো তার চিকিৎসার প্রথম স্টেজ। এখনো
অনেকদূর যেতে হবে। অসুখটা শুধু তার হাতে না। হাতের টিউমার একটি বিষয় ছিলো।
তাকে অনেকদিন আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। টিউমার কেটে চামড়া দিয়ে হাত
কভার করলেই অসুখটি চলে যাবে তা বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে এই
অসুখ নিয়ে অনেকেই আসে। কিন্তু ওকে নিয়ে আসতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
বাবা
মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, মেয়ের জন্য তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত।
মুক্তামণির যমজ বোন হীরামণিও কিছুক্ষণ পর পর তাকে দেখে আসছে আইসিইউতে।
উল্লেখ্য, বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের
মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে মুক্তামণির (১২) গত ১২ই আগস্ট সকাল ৯টার
দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। শিশুটির
হাতে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। গত
১১ই জুলাই ঢামেকে ভর্তি হয় শিশুটি।
আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন: