ম্যাক্স হেলথ কেয়ার
নয়াদিল্লীর ম্যাক্স হেলথ কেয়ার হাসপাতালের কান্ট্রি অফিস ঢাকার গুলশান-১
এর নাভানা টাওয়ারে অবস্থিত। বাংলাদেশ থেকে রোগীদের ঐ হাসপাতালে চিকিৎসা
নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে। রোগীদের
সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠানকে কোন প্রকার সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে
হয় না। শুধু মাত্র হাসপাতাল বা ডাক্তারের ফি নয়াদিল্লীতে হাসপাতালে প্রদান
করতে হয়।
অবস্থান ও ঠিকানা
গুলশান-১ চৌরাস্তার উত্তর পশ্চিম কোনায় অবস্থিত নাভানা টাওয়ারের ৮ তলায় ম্যাক্স হেলথ কেয়ার সেন্টার অবস্থিত। এটির ঠিকানা
স্যুইট# বি, লেভেল# ৭ (৮ম তলা), নাভানা টাওয়ার, ৪৫ গুলশান এভিনিউ,
গুলশান-১, ঢাকা। যোগাযোগের ফোন নম্বর- ০২-৮৮২১৬০৪, ০১৯২৯-০০০০০০, ই-মেইল- maxhealthcare@mirageservicese.com, ওয়েব সাইট- www.maxhealthcare.in
সময়সূচী
শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকী ছয় দিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত অফিসটি খোলা থাকে।
সেবা সমূহ
- ম্যাক্স হেলথ কেয়ার ভারতে ৬ টি হাসপাতাল ও ২ টি মেডিসিন সেন্টারে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা করে থাকে।
- এই হাসপাতালগুলোতে কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারী, নিউরো সাইন্স, অর্থপেডিক ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, ক্যানসার, স্পাইনাল সার্জারী, এস্থেটিক ও রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারী চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।
- রোগীর পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট কপি স্ক্যান করে দিল্লীতে অনলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
- ডাক্তার সকল বিষয় অনুধাবন করে রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি; যেমন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে কিনা, নাকি শুধু ঔষধেই রোগ নিরাময় হবে তা জানিয়ে মেইল করে থাকেন।
- মেডিকেল ভিসা সংগ্রহের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে রোগীর নামে একটি অনুমতিপত্র প্রদান করে থাকে। এই অনুমতিপত্রের একটি কপি এই প্রতিষ্ঠানেও আসে যা রোগী ভিসার আবেদনের সময় ভারতীয় দূতাবাসে উপস্থাপন করতে হয়।
- দিল্লীতে রোগী ও তার স্বজনকে সার্বিক দিক নির্দেশনা বাংলায় প্রদান করার জন্য একজন গাইড সর্বদা সঙ্গে থাকে। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় এই গাইড সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। রোগীর স্বজনরা ইচ্ছে করলে ব্যক্তিগতভাবে বখশিস দিতে পারে।
- ভিসা ও বিমান টিকেট গ্রাহককে নিজে করতে হয়। বাংলাদেশে উক্ত গ্রুপের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোন সার্ভিস চার্জ দিতে হয় না।
- ভারতে গিয়ে যে ডাক্তারকে দেখাতে রোগী বা তার স্বজন ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে তার কাছেই দেখানোর ব্যবস্থা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
- দিল্লীতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
ভিসা আবেদন ও সংগ্রহ
- মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।
- ভিসার নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হয়।
- আবেদনের সময় হাসপাতালের অনুমতিপত্রের কপি যুক্ত করতে হয়।
- আবেদনের সময় ১৫০ ডলার এন্ডোর্স করলেও সর্বোচ্চ ১৫০০ ডলার নিয়ে যাওয়া যায়।
- আবেদনের ৩ দিনের মাথায় ভিসা সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
- মেডিকেল ভিসার মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন দেওয়া হয়ে থাকে।
- বছরে একাধিকবার যাওয়ার প্রয়োজন হলেও মেডিকেল ভিসার আবেদন করলে ৩ দিনের মধ্যে তা প্রদান করা হয়ে থাকে।
সঙ্গে যা নেওয়া যায়
- প্রয়োজনে ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত এন্ডোর্স করে নিয়ে যাওয়া যায়।
- প্রয়োজনমতো নগদ রুপী।
- ভিসা সহ পাসপোর্ট।
- অতীত চিকিৎসাপত্র।
- হাসপাতালের অনুমতি পত্র।
- পরিধেয় বস্ত্র।
যাওয়ার ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে আকাশপথে সরাসরি দিল্লী। বিমানের টিকেট আপডাউন জনপ্রতি ৪০,০০০
টাকা। এছাড়া যদি কেউ বিমানে কলকাতা হয়ে যেতে চায় তবে যেকোন বিমানে কলকাতা
এরপর সেখান থেকে ভারতীয় ডোমেস্টিক বিমানে দিল্লি যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এতে
২ ঘন্টা কলকাতা এয়ারপোর্টে অবস্থান করতে হয়। এতে জনপ্রতি টিকেট ভাড়া
আপডাউন ২৬,০০০ টাকা লাগে।
সড়ক পথে কলকাতায় গিয়ে সেখান থেকে ট্রেন অথবা বিমানে দিল্লি যাওয়ার
ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রেনে টিকেট ফি ৯০ ডলার এবং বিমানের টিকেট বাংলাদেশী
টাকায় ১২,০০০ টাকা।
ভারতে হাসপাতালে প্রাপ্ত সুবিধা সমূহ
- যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা।
- Query Re Solution (including Tele-Consutation)
- Relationship manager এর মাধ্যমে রোগী ও তার স্বজনদের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তরিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
- ইন্টারনেট সার্ভিস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।
- নিয়মিত রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।
যেসব রোগের চিকিৎসা করা হয়
- ক্যান্সার
- হৃদরোগ
- স্নায়ু রোগ
- অর্থোপেডিকস
- এস্থেটিক এন্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারী
- স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতি বিদ্যা
- শিশু রোগ
- চক্ষু রোগ
- দন্ত রোগ
থাকা ও খাওয়া খরচ
হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকাতে থাকার জন্য ১ বা ২ রুমের ফ্ল্যাট পাওয়া যায়।
এসি এবং নন এসি দুই প্রকারের ঘরই পাওয়া যায়। এখানে প্রতিদিনের ভাড়া হার-
- এসি রুম ৩,০০০ রুপি
- নন এসি রুম ১,৫০০ রুপি
এসব রুমে রান্না করার জন্য চুলা, হাড়িপাতিল, থালা সবকিছু রয়েছে। শুধু
বাজার করে নিজেরাই রান্না করা যায়। এছাড়া হোটেল থেকে খাবার খেলে প্রতিদিন
(৩ বেলা) জনপ্রতি ৬০০ টাকা খরচ হয়।
